…CHEERS

Stories

Anandabazar Patrika – Rabibasoriyo – Anandamela May 29, 2011 – “Jhaal” by Ullas Das

ঝাল – আনন্দবাজার পত্রিকা  

May 29, 2011

ঝাল

উল্লাস দাস 

লাল টুকটুকে মারুতি গাড়িটা ছগনের গাড়িটার সামনে দাঁড়াল। স্পষ্টত নতুন কেনা গাড়ি। বাপের বাড়ি, মানে শো-রুমের স্নেহ চকচক করছে সেটার গায়ে। আস্তে করে যন্ত্রচালিত কালো কাচটা নেমে গিয়ে গাড়িটা থেকে দেখা দিল একটা মাথা।
ড্রাইভারের সিটে বসা অবাঙালি মানুষটা, ছগনের গাড়িটার দিকে আনমনে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল। তার পর কী মনে করে গাড়ির বাকি জানলার কাচগুলো নামিয়ে দিয়ে, ইঞ্জিনটা বন্ধ করে, পান খাওয়া লাল ঠোঁটটা এক বার চেটে নিয়ে, দরজা খুলে, নেমে এল গাড়ি থেকে।
মোটাসোটা, ভুঁড়িওয়ালা, মাঝারি হাইটের লোকটার পরনে একটা ধূসর রঙের সাফারি স্যুট। চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। চলার তালে দুলতে থাকা ভুঁড়ি আর নাকটা খানিকটা অদরকারি ভঙ্গিতে নামিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে তাকানোর মধ্যে একটা বড়লোকি দেখনদারির আভাস রয়েছে।


ছগন হাড়ে হাড়ে চেনে এ সব ‘হঠাৎ বড়লোক’দের। সাড়ে সাত বছরের উপর ময়দানের পাশে গাড়ি নিয়ে দাঁড়ায় ছগন। একটা সাধারণ ভ্যান-রিকশাকে সাজিয়েগুছিয়ে নিজের দোকান-গাড়ি বানিয়ে নিয়েছে ও।
বছরে তিনশো ষাট দিনই এই একই জায়গায় হাজিরা দেয় ছগন। তার ব্যবসা-রুজি-রুটি— সবই এই দোকান-গাড়ি।
বাদাম বিক্রি করে ছগন।
বাদাম দিয়েই আসলে ব্যবসাটা শুরু করেছিল ও, সে বার বিহার থেকে এসে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন বাদামের পাশাপাশি ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজ, লঙ্কা, চানাচুর, আচার— সবই রাখে ও।
অবাঙালি, লাল ঠোঁটওয়ালা সেই লোকটা ছগনের দোকানের সামনে এসে গলাটা একটু কেশে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, ইখানে পিসাব করবার জায়গা কোথায় আছে?
ফাঁকা ময়দান। এ দিক ও দিক রাস্তার ধারের জঞ্জাল। কোনও মানুষকে যে এর মাঝে ইয়ে করার জায়গাটা খুঁজে দেখাতে হতে পারে, এটা ছগন কখনও স্বপ্নেও ভাবেনি।
বাঁ হাতের ইশারায়, পাশের জঞ্জালের দিকে দেখিয়ে দিল ছগন।
ভৌ!
এতক্ষণ খেয়াল করেনি ছগন।
গাড়িটার পিছনের জানলা দিয়ে একটা সাদা-খয়েরি লোমওয়ালা কুকুর মাথা বের করে ডাক দিচ্ছে, লোকটাকে দোকান পেরিয়ে যেতে দেখে!
— ওয়েট জিমি, আই অ্যাম কামিং…
ছগনের ছ’বছরের ছেলেও কোত্থেকে একটা কুকুর ধরে এনেছে। ওটার ও নাম রেখেছে জিমি। দিশি কুকুরের সাহেবি নাম!


ডান গালটা চুলকাতে চুলকাতে আনমনেই হেসে উঠল ছগন।
— হামাকে দুশো বাদাম দে।
ছগন খুশি মনে বাদাম দাঁড়িপাল্লায় চাপাল। এ সব পার্টির থেকে বেশি চাইলেও এরা কিছু মনে করে না।
লোকটা সাফারির পকেট হাতড়ে মানি-ব্যাগ বের করে, সেখান থেকে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট ছগনের দিকে এগিয়ে দিল।
হাড়হাভাতে কয়েকটা ভিখারির বাচ্চা আছে এই চত্বরে। যেই না কোনও কাস্টমারকে দোকানে আসতে দেখে, ছুটে এসে ভিড় করে।
আজ মাত্র এক পিসই একটু দূরে বসে জুল-জুল চোখে ছগনকে দেখছিল। লোকটা পকেটে হাত ঢোকাতেই উঠে এসে হাজির হয়েছে। এ ব্যাটা সব থেকে বিচ্ছু। ভীষণ বদমাশ।
একশো বাদাম দশ টাকা নেয় ছগন। দুশোর দাম হয় কুড়ি টাকা। দশ টাকা বেশি ধরে নিয়ে, দুটো দশ টাকার নোট ফেরত দিতে যাচ্ছিল ছগন, লোকটা হাতের ইশারায় থামিয়ে দিল।
এই ‘হঠাৎ বড়লোক’গুলো ছগনের দোকানে মাঝে মাঝেই তাদের বড়লোকি দেখায়। ছগন এ সবে অভ্যস্ত।
একটা সেলাম ঠুকে টাকাটা আবার পেঁয়াজ কাটার কাঠের টুকরোটার পাশে ভাঁজ করা বস্তাটার নীচে গুঁজে রেখে দিল ছগন।
— অ্যাই ছগনা, বাদাম দে…
ভিখারির বাচ্চাটার সাহস দেখে থ হয়ে গেল ছগন। কোথায় এই মালদার পার্টিটার থেকে ভিক্ষা চা— পাঁচ টাকা, দশ টাকা, যা হোক দিয়ে দেবে; তা নয়, ছগনকে তুই-তোকারি করছে।
— চল, ভাগ হিঁয়া সে…


অবাঙালি লোকটা বোধ হয় গোটা ব্যাপারটা উপভোগ করল। কিন্তু ছগনের ভিখারি তাড়ানোটা থামাতে আবার বেশ কায়দা করে নিজের বাঁ হাতটাকে তুলল লোকটা।
— ইসে ভি থোড়া বাদাম দো…
ছগনের মাথাটা গরম হয়ে গেল। যে ক’টা টাকা এক্সট্রা হল, তাতে আবার এ ব্যাটা ভাগ বসাচ্ছে!
পৌনে ছ’টাক অনিচ্ছা-মাখা মুখে, এক মুঠো বাদাম একটা ঠোঙায় ফেলে ভিখারিটার দিকে এগিয়ে দিল ছগন।
— লে, ভাগ…
— ভৌ…
মালিকের অহেতুক দেরি দেখে বা খাবারের আদানপ্রদান দেখে, যে কারণেই হোক, জিমি আবার ডেকে উঠল।
— যো হামসে হ্যায়সিয়ত ছোটে হোতে হ্যায়, হাম উসে ভুখা নেহি রাখতে। খা লে বাচ্চা… খা লে…
কথাটা শেষ করেই লোকটা একটা বিশ্রি হাসি হাসল।


কথাটা আঁতে লাগল ছগনের। কথাটার খোঁচাটা শুধু ভিখারি ছেলেটাকে লক্ষ্য করে নয়, কথাটা ছগনকেও বিঁধিয়ে শোনাল লোকটা।
কিন্তু গায়ের ঝালটা কী ভাবে মেটানো যায়, ভেবে পেল না ছগন।
গর্বিত মুখে অভদ্র লোকটা ঘুরে দাঁড়াল মারুতিটার দিকে ফিরে যেতে।
কিন্তু ও দিকে খেয়াল হতেই ছগন এবং লোকটার দু’জনেরই আচমকা ছ’ইঞ্চি বাম্পারের ঝাঁকুনি অনুভূত হল।
এবং নিমেষে দু’জনের মুখ এবং মনের ভাব সম্পূর্ণ অদলবদল হয়ে গেল।
ভিখারি ছেলেটা, বাদামগুলো একটা একটা করে গাড়িতে বসা সাহেবি কুকুরটাকে খাওয়াচ্ছে, আর বলছে, ‘যো হাম সে হ্যায়সিয়ত ছোটে হোতে হ্যায়, হাম উসে ভুখা নেহি রাখতে। খা লে বাচ্চা…’

REFERENCE : http://anandabazar-unicode.appspot.com/proxy?p=archive%2F1110528%2F29rabiamela1.htm

Advertisements

Sananda Sept 30 2004 – “Taak” by Ullas Das


Unish Kuri Sept 04 2010 – “Keu Jane Na” by Ullas Das


Sanada Sept 30 2004 – “Taak” by Ullas Das


Unish Kuri Aug 04 2004 – “Byaktigoto” by Ullas Das


Unish Kuri Nov 19 2003 – “Ekhono Somoy” by Ullas Das